বৈধভাবে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে সার্বিয়া গিয়ে সেদেশের রাস্তায় মৃত্যুবরণ করা বাংলাদেশি কর্মী বাদল খন্দকারের মৃতদেহ দেশে আসবে শনিবার রাতে। সরকারি সহায়তায় তার লাশ দেশে আনা হচ্ছে।

শুক্রবার (১৫ এপ্রিল) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাদল খন্দকারের ভাই সাদ্দাম। সাদ্দাম জানান, বাদল খন্দকারের মরদেহ তার নিজ বাড়ি মানিকগঞ্জ দাফন করা হবে।

এর আগে গত ৮ মার্চ বাদল খন্দকারের মৃত্যু নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর মৃত বাদল খন্দকারের বিষয়ে খোঁজ নেওয়া শুরু করে ইতালির রোমে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা। পরিবারের আবেদনের পর দেশে লাশ পাঠানোর উদ্যোগ নেয় দূতাবাস।

সার্বিয়ায় নিযুক্ত অনারারি কনসাল জেনারেল ডেভর ব্রেসিককে অবহিত করা হলে তিনি স্থানীয়ভাবে যোগাযোগ করে তার মৃতদেহের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হন এবং দেশে পাঠানোর বিষয়ে স্থানীয় পুলিশ ও ফিউনারেল এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এরপর লাশ দেশে পাঠানোর খরচ বহনের জন্য ঢাকায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডে চিঠি দেয় দূতাবাস। এর পরিপ্রেক্ষিতে অর্থ বরাদ্দের অনুমোদন দেয় বোর্ড।

উল্লেখ্য, চার মাস আগে মেসার্স নুরজাহান রিক্রুটিং এজেন্সি নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) ছাড়পত্র নিয়ে কাজের উদ্দেশ্যে সার্বিয়ায় যান ১৪ বাংলাদেশি কর্মী। কিন্তু গিয়ে দেখেন সার্বিয়ান কোম্পানি ‘ভেকা প্লেনা’ বন্ধ হয়ে গেছে। কাজ না পেয়ে হতাশায় পড়েন তারা। তাদের মধ্যে একজন মানিকগঞ্জের বাদল খন্দকার হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে পথেই মারা যান। বাদলের মৃত্যুর পর তার মৃতদেহ দেশে আনার জন্য সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছিল তার পরিবার।